অ্যান্টিভাইরাস কি, কীভাবে কাজ করে এবং ব্যবহারের সুবিধা কি?

অ্যান্টিভাইরাস কি

কম্পিউটার ইউজাররা সবাইই মোটামুটি অ্যান্টিভাইরাস শব্দটার সাথে পরিচিত। আজকের এই পোস্টে আমরা আলোচনা করবো অ্যান্টিভাইরাস কি? কীভাবে কাজ করে এবং এটা ব্যবহারের উপকারিতা গুলো সম্পর্কে।

 

অ্যান্টিভাইরাস কি?

 

অ্যান্টিভাইরাস হচ্ছে একধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা আমাদের কম্পিউটার সিস্টেমের ভাইরাস রোধ করতে সাহায্য করে থাকে। এটা মুলত ভাইরাস সনাক্ত এবং রিমুভ করতে অনেক বড় একটা ভুমিকা রাখে। এছাড়া ও আরো নানা ধরনের কাজ করে থাকে একটা অ্যান্টিভাইরাস।

 

এক কথায় বলতে গেলে, কম্পিউটারের ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে যে প্রোগ্রাম কাজ করে, সেটাই অ্যান্টিভাইরাস।

বাজারে নানা ধরনের অ্যান্টিভাইরাস রয়েছে, অনেক গুলো রয়েছে ফ্রি আবার অনেক গুলো পেইড।

 

এটা কীভাবে কাজ করে এবং ব্যবহার করা কি ঠিক?

 

অ্যান্টিভাইরাস এমন একটা প্রোগ্রাম যাদের ডাটাবেজে এখন পর্যন্ত সনাক্ত হওয়া সব ধরনের ভাইরাসের অস্তিত্ব আছে। অর্থাৎ তারা আপনার পিসি একবার স্ক্যান করেই বলে দিতে পারবে এখানে কোন ফাইলে বা ফোল্ডারে ভাইরাস রয়েছে।

 

নতুন নতুন ভাইরাস আবিষ্কৃত হচ্ছে দিন দিন আর অ্যান্টিভাইরাস গুলো ও তাদের ডাটাবেজকে আরো বেশী সমৃদ্ধ করছে সেসব তথ্য জমা করে।

 

আমরা যারা অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করে থাকি, আমরা প্রায়ই দেখি সেটা আপডেট চাচ্ছে, আপডেট দিলে সর্বশেষ তাদের যে টেকনোলজি সেটা চালু হয়ে যাচ্ছে। এজন্য অ্যান্টিভাইরাস রেগুলার আপডেটেড রাখা উচিত।

 

অ্যান্টিভাইরাস খুব সহজেই আপনার পিসিতে থাকা যে কোন ধরনের ম্যালওয়ার বা দূষিত ফাইল বের করে ফেলতে পারে। অনেকাংশে, তারা সেটা আপনার পিসিতে যেন চালু না হতে পারে সে জন্য ওটাকে ব্লক করে রেখে দেয় এবং আপনাকে নটিফাই করে সেটা জানিয়ে ও দেয়।

 

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে, অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা কি ঠিক?

 

এর উত্তর একটাই, হ্যাঁ ব্যবহার করা ঠিক এবং খুবই উচিত। কারন এটা নানা ভাবে আপনাকে ওয়েবে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। নিচে আমরা অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহারের সুবিধাগুলো তুলে ধরছি, সেসব পড়লেই বুঝতে পারবেন এটা ব্যবহার করা কেন জরুরি?

 

অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহারের সুবিধাগুলো কি কি?

 

অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহারের রয়েছে অসংখ্য সুবিধা এবং পজিটিভ সাইড, এই গুলোই তুলে ধরবো এখানে।

 

আপনার সেনসিটিভ ডাটা প্রটেক্ট করে

 

আমাদের পিসিতে অনেক সময় অনেক পার্সোনাল বা ফাইনান্সিয়ালি জরুরি ডাটা থাকে। যেমন অনেকেই ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ডকুমেন্টস থাকতে পারে কিংবা থাকতে পারে ব্যাংক এর পাসওয়ার্ড, পিন জাতীয় কিছু। এসব ডাটাকে প্রটেক্ট করে রাখাটা খুবই জরুরি।

 

আমরা হয়তো যেকোন একটা টেক্সট ডকুমেন্টে সব কিছু রেখেই নিশ্চিন্ত হয়ে পরি। কিন্তু আসলেই কি আমাদের নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ আছে? মোটে ও নাহ। কারন যতক্ষন না আমরা ভালো একটা অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ডাটা মোটে ও সেফ নাহ।

 

সো আমাদের সেনসিটিভ ডাটাকে সেফ রাখতে চাইলে অবশ্যই আমাদের উচিত অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা।

 

র‍্যানসমওয়ার ঝুকি থেকে বাঁচায় আপনাকে

 

র‍্যানসমওয়ার একটা বিশেষ ধরনের ম্যালওয়ার যা খুব সহজেই যেকোন পিসি বা সিস্টেমকে আক্রান্ত করে অচল পর্যন্ত করে দিতে পারে। যদি ও র্যানসামওয়ার খুব বেশী শক্তিশালি কোন ভাইরাস না, কিন্তু আপনি যদি এটা সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে থাকেন, তাহলে খুব সহজেই আপনার পার্সোনাল ডাটা বেহাত হয়ে যাওয়ার অনেক বেশী সম্ভাবনা থেকে যায়।

র্যানসামওয়ার ঝুকি থেকে আপনাকে অনেকাংশেই সুরক্ষা প্রদান করার জন্য যেকোন একটা সাধারণ মানের অ্যান্টিভাইরাসই যথেষ্ট। তো আপনি যদি এটা সম্পর্কে আগে থেকে জেনে থাকেন কিংবা যদি না ও জেনে থাকেন, এই ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য অবশ্যই আপনাকে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে।

 

ইমেইল প্রটেক্ট করে

 

ইমেইল যোগাযোগ এবং ডকুমেন্টস শেয়ারের জন্য খুবই জরুরি একটা প্লাটফর্ম। আপনার বেশীরভাগ ওয়েবসাইটের একাউন্ট ক্রিয়েট করতেই এটার প্রয়োজন হয়। ইভেন, আপনার ব্যাংকে ও এটা যোগ করা আছে।

এর মানে, কেউ যদি আপনার ইমেইলের এক্সেস হাতিয়ে নিতে পারে, তাহলে সে আপনার অনেক তথ্য হাতিয়ে নিতে সক্ষম হবে। তাই আপনাকে এখনি সচেতন হবে। আর এটা থেকে আপনাকে বাচাতে অনেক বড় একটা ভুমিকা পালন করে অ্যান্টিভাইরাস।

বেশীরভার অ্যান্টিভাইরাস এরই একটা বিশেষ ফিচার থাকে, যা আপনার ইমেইলকে আলাদা ভাবে প্রটেকশন দিয়ে থাকে।

 

আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজিংকে করে নিরাপদ

 

ইন্টারনেট ব্রাউজিং করে না, এমন মানুষ পাওয়াটা এখন অনেক কঠিন হবে। সবাইই তাদের পিসিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। আর আমাদের কম্পিউটারে ভাইরাস আসার একটা রাস্তা বলা যায় ইন্টারনেটকে।

কারন আমরা নিজেরা ও জানি না, কত ম্যালওয়ার ভর্তি ওয়েবসাইটে আমরা প্রবেশ করছি প্রতিনিয়ত। কত ওয়েবসাইট আমাদের কত ডাটা আমাদের অজান্তে দেখতেছে। সো এসব ব্যাপার পুরোটা নিয়ন্ত্রন করার জন্য একটা অ্যান্টিভাইরাস খুবই ভালো একটা রোল প্লে করবে।

একটা অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করার পরে আপনি অনেক রিল্যাক্সে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারবেন। কোন সন্দেহ জনক ওয়েবসাইটে ঢুকলে সেটা আপনাকে সাথে সাথে নটিফাই করে জানিয়ে দিবে।

 

হ্যাকিং থেকে সুরক্ষা

 

হ্যাকিং এর শিকার হওয়াটা এই যুগে খুবই কমন একটা ব্যাপার। এসব ব্যাপার এড়াতে চাইলে ওয়েবে নিজেকে সুরক্ষিত করাটা খুবই জরুরি। আর সেজন্য অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করা খুবই জরুরি।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস গুলো আপনাকে হ্যাকিং থেকে খুব বেশী একটা সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয় না, তাই আপনাকে একটা প্রিমিয়াম অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে।

 

সার্ভার প্রটেকশন

 

যারা ওয়েবসাইট চালান কিংবা যাদের নিজস্ব ওয়েবসার্ভার আছে, তারা জানেন সেসবে কি পরিমান ম্যালওয়ার এটাক হয়। আবার ওসব সার্ভারে সবারই খুবই জরুরি তথ্য জমা করা থাকে। সেজন্য এসব সার্ভারের নিরাপত্তা খুবই জরুরি একটা বিষয়।

 

সার্ভারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এর কোন বিকল্প নেই।

 

সব মিলিয়ে আপনি যদি আপনার কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিংকে একদম নিরাপদ এবং টেনশন ফ্রি করতে চান, তাহলে একটা অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা আপনার জন্য খুবই জরুরি। অনেকেই বলতে পারে যে, অ্যান্টিভাইরাস কোন ডিফারেন্স তৈরি করে না, এটা ব্যবহার না করলে ও চলে, এসব কথায় কান দিবেন নাহ।

মেটাঃ অ্যান্টিভাইরাস কি? কীভাবে কাজ করে এবং আপনার ব্যবহার করা উচিত কি না সহ এটা ব্যবহারের সুবিধা সহ সকল খুঁটিনাটি ব্যাপার জানতে পারবেন।

Share With

Share on facebook
Share on twitter
Share on email

You may also like

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *