সার্ভার কি? কত প্রকার ও কি কি এবং কিভাবে কাজ করে?

সার্ভার কি

সাধারণভাবে যে সার্ভ করে তাকে সার্ভার বলা হয়। কিন্তু ওয়েবে বা যে সার্ভার নিয়ে আমরা কথা বলব সেইটার ডেফিনেশন এবং কাজ সবকিছু সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা আজকে মূলত কথা বলবো ওয়েব সার্ভার নিয়ে। আমাদের যাদের ইন্টারনেটের সাথে ভালো পরিচিতি আছে আমরা সবাই সার্ভার শব্দটা অনেকবার শুনেছি। অনেকেই হয়তো জানি না এই সার্ভার জিনিসটা আসলে কি। এটা না জানার ফলে আমাদের অনেক মূল্যবান তথ্য এবং আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করতে পারিনা।

 

তাই আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমরা শিখব সার্ভারের খুঁটিনাটি সম্পর্কে। আমরা জানবো সার্ভার কি, সেটা কিভাবে কাজ করে কত প্রকার এবং কি কি? আশা করছি এই ব্লগ পোস্টে আপনাদের জন্য অনেক হেল্প ফুল এবং তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট হবে।

 

সার্ভার কি?

 

উদাহরণস্বরূপ ধরে নিচ্ছি আপনি আপনার মোবাইল ফোনে আমাদের এই ব্লগ পোস্টে পড়ছেন। এর জন্য আপনাকে কি করতে হয়েছে? আপনি নিশ্চয়ই গুগলে সার্চ করে আমাদের এই লেখাটি পেয়েছেন কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করে এই পোস্ট পর্যন্ত এসেছেন। এখন এই লেখাটি আপনি যে আকারে দেখছেন সেটা তো কোন না কোন জায়গায় ওইভাবে স্টোর করে রাখা আছে।

 

কারণ স্টোর কোরে রাখা না থাকলে এই লেখাটা নিশ্চয়ই হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে না। এই লেখাটা যেখানে স্টোর করা আছে সেটাকে বলে এক ধরনের সার্ভার। আপনি আপনার ফোন থেকে আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজার দিয়ে কমান্ড করার কারণে একটা সার্ভার থেকে নির্দিষ্ট কিছু রেজাল্ট আপনার ফোনের স্ক্রিনের মধ্যে হচ্ছে। মূলত এভাবেই সার্ভার কাজ করে। আমরা ইন্টারনেটে যা কিছুই দেখি না কেন সে সব জিনিস কোন না কোন জায়গায় স্টোর কোরে রাখা আছে।

 

আর সেই থেকেই মূলত বলা হয় সার্ভার। এখন সব সার্ভার এর জন্যই ইন্টারনেট কানেকশন জরুরী নয়। আপনি যদি আপনার কম্পিউটার ব্যবহার করে একটা সার্ভার তৈরি করতে চান, এবং আপনি যদি সেটাকে আপনার বাসায় থেকে অ্যাক্সেস করতে চান তাহলে সেজন্য আপনাকে ইন্টারনেট এর শরণাপন্ন হতে হবে না।

 

কিন্তু আপনি যদি চান আপনি একটা ওয়েব সার্ভার তৈরি করবেন যা আপনি দুনিয়ার যেকোন জায়গা থেকে অ্যাক্সেস করতে পারবেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই ইন্টারনেট কানেকশন সমৃদ্ধ একটা সার্ভার তৈরি করতে হবে। ওই সার্ভারকে বলা হয় ওয়েব সার্ভার। এখন এর দুনিয়ায় সার্ভার বলতে মানুষ মুলতঃ ওয়েবসার্ভারই বুঝে। কারণ এর প্রচলন সবচেয়ে বেশি।

 

ওয়েব সার্ভার কিভাবে কাজ করে?

 

আমরা জানলাম সার্ভার কি এবার আমরা জানবো সার্ভার কিভাবে কাজ করে। আমি যদি আপনাকে একটা উদাহরণ দেই ধরুন, আপনি একটা মুভি ডাউনলোড করতে চাচ্ছেন। তো আপনি কি করবেন? আপনি নিশ্চয়ই গুগলে যাবেন এবং ওই মুভির নাম লিখে সার্চ করে কোন একটা ওয়েবসাইট থেকে সেটা ডাউনলোড করার চেষ্টা করবেন, তাই তো?

 

এখন এই মুভিটা কিংবা মুভির ফাইলটা নিশ্চয়ই কোনো না কোনো কম্পিউটার সার্ভারে জমা করে রাখা আছে এবং সেই কারণেই আপনি যখন ওই ওয়েবসাইট থেকে মুভিটা ডাউনলোড করার জন্য রিকুয়েস্ট করছেন, তখন ওই ওয়েবসাইট আপনার রিকোয়েস্টটা কে প্রসেস, করে ওই সার্ভার থেকে মুভিটা আপনার স্টোরেজের ডাউনলোড করে দিচ্ছে।

 

সার্ভারের প্রদান এবং অন্যতম কাজ হচ্ছে আমাদের বিভিন্ন ফাইল এবং ডকুমেন্টস স্টোর করে রাখা এবং আমাদের রিকোয়েস্ট অনুযায়ী সেইটা প্রসেস করা। এই প্রসেসিং হতে পারে একটা ডকুমেন্ট ডাউনলোড, ডিলিট কিংবা ট্রান্সফার।

 

সার্ভার এর মধ্যে ওয়েব সার্ভার এর ব্যবহার এবং প্রচলন সবচেয়ে বেশি। আমরা সবাই কোন না কোন ভাবে ওয়েব সার্ভার ব্যবহার করছি এবং সেটার উপর নির্ভরশীল।

 

সার্ভার কত প্রকার ও কি কি?

 

এবার আমরা জানবো সার্ভার কত প্রকার এবং কি কি? আসলে সার্ভারকে নানা ভাগে ভাগ করা যায় এবং এর অনেক ধরনের প্রকার বের করা যায়। কিন্তু আমরা এখানে প্রকাশ করব সার্ভারের যেই মৌলিক প্রকারগুলো রয়েছে সেগুলোর উপর। আমরা এখানে ওয়েব, ইমেইল, এফ টি পি, এবং আইডেন্টিটি সার্ভার নিয়ে কথা বলবো। এখন যে কেউ চাইলে ওয়েব সার্ভার কেউ বিভিন্ন বিভাজনে ভাগ করতে পারে। আমার ইমেইল সার্ভার এর রয়েছে অনেক ধরনের প্রকারভেদ। আমরা অত বেশি বিশ্লেষণের না গিয়ে এই চারটা সার্ভার সম্পর্কে বেসিক তথ্য জেনে নিব।

 

ওয়েব সার্ভার

 

উপরে উদাহরণস্বরূপ যে সার্ভারের কথা বলা হয়েছে সেটাই মূলত ওয়েবসার্ভার। ওয়েব সার্ভার ব্যবহার অনেক বেশি আমরা সবাই কোন না কোন ভাবে ওয়েব সার্ভার ব্যবহার করছি। আর এই পুরো ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েব সার্ভার এর উপর নির্ভরশীল। আমরা যত ধরনের কনটেন্ট সেটা ভিডিও, ছবি কিংবা টেক্সট যাই হোক না কেন সব কিছুই দেখতে পাচ্ছি শুধুমাত্র সার্ভারের কল্যাণে।

 

ইমেইল সার্ভার

 

নাম দেখেই বুঝতে পারছি যে সার্ভারে মূলত ইমেইল আদান-প্রদান এবং ইমেইল সম্পর্কিত তথ্য সংরক্ষণ করা হয় সেই সার্ভারকে ইমেইল সার্ভার বলা হয়। যারা ইমেইল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করে তাদের জন্য এই সার্ভার অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। এখানে নতুন নতুন ইমেইল ইউজার তৈরি করা যায় এবং একই সাথে হাজারো লাখো মানুষকে ইমেইল প্রেরণ করা যায়। এটা খুবই পাওয়ারফুল একটা টুল যার মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক উচ্চ পর্যায়ে চলে গিয়েছে।

 

এফ টি পি সার্ভার

 

আমরা যখন ইন্টারনেট কানেকশন নেই কোন ব্রডব্যান্ড কোম্পানির কাছ থেকে তখন তারা তাদের একটা ftp-server আমাদেরকে শেয়ার করে, যেখান থেকে আমরা চাইলে খুব দ্রুত গতিতে মুভি কিংবা গেমস ডাউনলোড করতে পারি। যেই ধরনের সার্ভারগুলো এরকম বড় বড় ফাইল ট্রান্সফারের জন্য শুধুমাত্র ব্যবহৃত হয়ে থাকে সেসব সার্ভারকে এফটিপি সার্ভার বলা হয়।

 

আইডেন্টিটি সার্ভার

 

আইডেন্টিটি সার্ভার হচ্ছে যে সার্ভারে অনেক বেশি ইউজার আইডেন্টিটি বা তথ্য জমা থাকে। উদাহরণস্বরূপ ধরে নিচ্ছে বাংলাদেশের ন্যাশনাল আইডি কার্ডের একটা সার্ভার আছে ওইখানে আমাদের সবার আইডেন্টিটি সম্পর্কিত তথ্য জমা আছে। ওই সার্ভারকে আমরা একটা আইডেন্টিটি সার্ভার হিসেবে আইডেন্টিফাই করতে পারি।

এই ছিল আমাদের আজকের ব্লগ পোস্ট, আশা করি আপনারা সার্ভার সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়েছেন। এই বিষয়ে আরো জানতে চাইলে আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

Share With

Share on facebook
Share on twitter
Share on email

You may also like

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *