ক্লাউড কম্পিউটিং কি? ক্লাউড স্টোরেজ এর কাজ, সুবিধা-অসুবিধা কি?

ক্লাউড কম্পিউটিং কি

অনলাইনে যাদের বিচরন, তাদের কাছে ক্লাউড, ক্লাউড স্টোরেজ, ক্লাউড কম্পিউটিং এই ওয়ার্ডগুলো মোটামুটি পরিচিতই হবে। কিন্তু এর মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা ক্লাউড নিয়ে বিস্তারিত জানেন না কিন্তু জানতে চান। আমাদের আজকের পোস্ট তাদের জন্য। আজকের এই পোস্টে আমরা বিস্তারিত বর্ননা করবো ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে।

 

এক নজরে দেখে নিই আজকের এই পোস্টে আমরা কি কি শিখবঃ

 

১. ক্লাউড কম্পিউটিং কি?
২. ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রকারভেদ
৩. ক্লাউড স্টোরেজ কি?
৪. ক্লাউড স্টোরেজ এর সুবিধা কি?
৫. ক্লাউড স্টোরেজের অসুবিধা কি?
৬. ক্লাউডের ভবিষ্যৎ

 

ক্লাউড কম্পিউটিং কি?

 

সাধারণ ভাবে ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যাখ্যা করতে গেলে আমাদের কিছু সাধারণ উদাহরন দিতে হবে। যেমন ধরুনঃ আপনি একটা লাইব্রেরির সদস্য। ওই লাইব্রেরিতে অনেক বই আছে। আপনি ১ মাসের জন্য ১০০ টাকা দিয়ে ওখানকার সদস্য পদ লাভ করলেন। এখন ওই এক মাসে আপনি আপনার দরকারি সব বই এর এক্সেস পেয়ে যাচ্ছেন ওখানে। এক মাস পরে আবার আপনার মেয়াদ শেষ, আপনি চাইলে সেটা রিনিউ করতে পারেন বা বাদ দিয়ে দিতে পারেন, প্রয়োজন ভেদে।

 

একই ভাবে, সাপোজ আপনার একটা হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং সিস্টেমের দরকার পড়লো, এবং সেটা ১ মাসের জন্য। এখন ওই রকম একটা সিস্টেম বিল্ড করতে আপনার লাখ লাখ টাকা খরচ হবে, একই দিকে সেটা আপনি ব্যবহার করবেন মাত্র কিছুদিনের জন্য। এই সমস্যার সলিউশন নিয়েই তৈরি হয়েছে ক্লাউড কম্পিউটিং সিস্টেম, যা সম্পুর্ন ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করে এবং আপনি চাইলেই যেকোন হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং সিস্টেম ভাড়া নিতে পারবেন নির্দিষ্ট কিছু টাকার বিনিময়ে।

 

এখানে ক্লাউড শব্দটা মুলত আসছে, এটা যেহেতু ওয়ারলেস এবং সম্পুর্ন ইন্টারনেট ভিত্তিক, সে জন্য। ক্লাউড কম্পিউটিং এর নানা সেক্টর রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ক্লাউড স্টোরেজ। নিচে আমরা ক্লাউড স্টোরেজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

 

ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রকারভেদ

 

ব্যবহার কারী বা ব্যবহারের উপর নির্ভর করে ক্লাউড কম্পিউটিং মুলত ৪ প্রকারঃ

১. পাবলিকঃ পাবলিক ক্লাউড হচ্ছে সেসব ক্লাউড যা কয়েকজন মানুষ থেকে শুরু করে কয়েক লাখ মানুষ পর্যন্ত একই সময়ে ব্যবহার করতে পারে। উদাহরন হিসেবে আমরা গুগলের ‘গুগল ড্রাইভ’ এর কথা বলতে পারি। পৃথিবীতে ১ বিলিয়নের চেয়ে বেশী লোক এই ড্রাইভ ব্যবহার করে। এখানে ব্যবহারকারী পাসওয়ার্ডের ব্যবহার করে নিজের ডাটা পাবলিক, প্রাইভেট করে রাখতে পারে এবং প্রয়োজন অনুসারে শেয়ার, ডিলিট বা ইডিট ও করতে পারে।

 

২. প্রাইভেটঃ প্রাইভেট সার্ভার হচ্ছে যেসব সার্ভার একজন শুধু তার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য শুধু নিজের প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করে সেটা। ধরুন, আপনার একটা কোম্পানি আছে, যাদের অনেক গুলো অফিস আছে, অনেক কর্মচারি আছে এবং আপনাদের প্রচুর ডাটা এক জন আরেকজনের সাথে প্রতিনিয়ত শেয়ার করা লাগতেছে এবং মোস্ট ইম্পোর্টেন্টলি সেসব ডাটা খুবই মুল্যবান।

 

আপনি নিশ্চয় চাইবেন না, কোন পাবলিক ক্লাউডে সেটা আদান-প্রদান করে সেটাকে নিরাপত্তা ঝুকিতে ফেলে দেওয়া। সেজন্যই আপনি বিল্ড করতে পারেন একটা প্রাইভেট সার্ভার। খরচ সাপেক্ষ হলে ও এটা অনেক বেশী সিকিউরড।

 

৩. হাইব্রীডঃ এটা এমন একটা বিশেষ ধরনের ক্লাউড যা পাবলিক এবং প্রাইভেট দুই ধরনের ক্লাউডের সাথেই ব্যবহার করা যায়।

যেমনঃ একই কোম্পানি তাদের কাস্টমারদের জন্য ব্যবহার করতেছে পাবলিক ক্লাউড আবার তাদের কর্মচারীদের জন্য ব্যবহার করতেছে প্রাইভেট ক্লাউড। এদুটোর মিক্সিংই মুলত হাইব্রীড।

 

৪. কমিউনিটিঃ কমিউনিটি ক্লাউড মুলত একাধিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে মিউচুয়ালি ডাটা আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

 

ক্লাউড স্টোরেজ কি?

 

ক্লাউড কম্পিউটিং এর পরে এবার আসি ক্লাউড স্টোরেজে। ইতোমধ্যে আপনারা হয়তো ক্লাউড স্টোরেজ নিয়ে ধারণা পেয়ে গিয়েছেন। এটা এমন একটা বিশেষ ধরনের স্টোরেজ, যা আপনি যেকোন স্থান থেকে যেকোন ডিভাইস থেকে ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে এক্সেস করতে পারবেন।

 

একটু এক্সপ্লেইন করছি, ধরুন আপনার কম্পিউটারে একটা মুভি রাখা আছে। এখন সেটা দেখতে চাইলে আপনাকে কম্পিউটার ওপেন করে সেটা প্লে করতে হবে। এছাড়া এটা প্লে করার কোন সুযোগ নেই।

 

কিন্তু ধরুন আপনি আপনার ক্লাউড স্টোরেজে একটা মুভি আপলোড করে রেখেছেন। এক্ষেত্রে, আপনি যেকোন জায়গা থেকে প্রোপার ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে আপনার ওই স্টোরেজ এক্সেস করে মুভিটি বসে বসে দেখতে পারবেন।

 

ক্লাউড স্টোরেজ এর সুবিধা কি?

 

এর অসংখ্য সুবিধা রয়েছে। নিম্নে কিছু সুবিধা তুলে ধরা হলোঃ

১. কারো সাথে কোন ফাইল বা ডাটা শেয়ার করতে চাইলে তাকে ফিজিক্যালি হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ জাতীয় কিছুই বহন করতে হবে না, অনলাইনেই ডাটা শেয়ার করা যাবে।

২. একটা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডের মাধ্যমে পুরোপুরি ভার্চুয়ালি কাজ করতে পারবে, এক জায়গায় না থেকে ও। সবার সব ডাটা, ফাইলস, ডকুমেন্টস, সবই একই সার্ভারে জমা করে রাখতে পারবে।

৩. এটাই এখনের আপডেটেড প্রযুক্তি, এটা আপনার অনেক কাজকে দ্রুত শেষ করতে সাহায্য করবে।

 

ক্লাউড স্টোরেজের অসুবিধা কি?

 

ক্লাউডের সুবিধার পাশাপাশি বেশ কিছু অসুবিধা ও রয়েছে। যেমনঃ

 

১. এর প্রাইভেসি নিয়ে ঝামেলা হতে পারে, যদি না আপনি এটার সিকিউরিটি সঠিক ভাবে মেইনটেইন না করেন। অনেক সময়ই দেখা যায়, দুর্বল ক্লাউড সার্ভার গুলো হ্যাকারদের পাল্লায় পরে তাদের সব ডাটা হারায় বা অনেক সময় টাকার বিনিময়ে হ্যাকারের কাছ থেকে ডাটা আনতে হয়।

 

২. ভালো ইন্টারনেট কানেকশন না থাকলে এখানে কানেক্টেড থাকা যাবে না এবং কাজ ও করা যাবে না। এটার পুরো এক্সেস পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভালো মানের একটা ইন্টারনেট কানেকশনে কানেক্টেড থাকা লাগবে।

 

ক্লাউডের ভবিষ্যৎ

 

সব সুবিধা অসুবিধার পরে ও, ক্লাউডের রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। বেশীরভাগ এক্সপার্টই মনে করেন, একটা সময় ফিজিক্যাল মেমোরির চেয়ে ক্লাউড সার্ভার বা স্টোরেজই মানুষ বেশী ব্যবহার করবে। এবং বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য ক্লাউড ব্যবহার করা খুবই জরুরি।

 

সব কিছু মিলিয়ে, এটাই বুঝা যায় যে, ভবিষ্যৎ হবে ক্লাউড ভিত্তিক। দিন দিন সুরক্ষার সিস্টেম স্ট্রং করে, সবাইই ঝুকছে ক্লাউড স্টোরেজের দিকে।

Share With

Share on facebook
Share on twitter
Share on email

You may also like

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *