ইন্টারনেটের ব্যবহার কি কি | শিক্ষা এবং অন্যান্য খাতে

ইন্টারনেটের ব্যবহার

ইন্টারনেটের ব্যবহার খুবই জরুরী। শিক্ষা এবং চিকিৎসা খাতে ইন্টারনেটের কল্যানে অনেক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। আজকে আমরা জানবো শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহার কি কি।একই সাথে আমরা জানব ইন্টারনেটের কারনে এই ক্ষেত্র কিভাবে উন্নত হয়েছে।

 

শিক্ষায় ইন্টারনেটের পাঁচটি ব্যবহার

 

১। অনলাইনে ক্লাস দেওয়া এবং নেওয়া সম্ভব হয়েছে

 

বর্তমানে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া খুবই কমন একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে করোনা পরবর্তী সময়ে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের পাঠ কার্যক্রম অনলাইনে চালু করতে বাধ্য হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র ইন্টারনেটের কল্যাণে। ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া কোনভাবেই অনলাইনে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হতো না। ইন্টারনেট এই জায়গাটায় আমাদের অনেক বড় একটা সার্ভিস দিচ্ছে। এখন বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরাই বাড়িতে বসে নিজের ফোন কিংবা নিয়ে তাদের ক্লাসরুমে জয়েন করতে পারছে।

 

আমাদের দেশের জন্য এটা খুবই নতুন এবং আকর্ষণীয় একটা পদক্ষেপ। যদিও বহির্বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে অনলাইনে শিক্ষা আদান-প্রদান অনেক আগে থেকেই চালু ছিল, কিন্তু এই ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু এখন আর পিছিয়ে নেই। পরিস্থিতির কারণে আমাদেরকে অনলাইনে শিক্ষা প্রদান গ্রহণ করতে হয়েছে। এবং এখন পর্যন্ত এই ইনিশিয়েটিভ যথেষ্ট সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

অনলাইনে ক্লাস করার অনেক সুবিধা রয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম বড় সুবিধা হচ্ছে যে কোন স্টুডেন্ট চাইলেই তার সমগ্র ক্লাশে রেকর্ড করে রাখতে পারে। এতে করে পরবর্তী সময়ে তার যদি কোন বিষয় বুঝতে সমস্যা হয় তাহলে সেই ওই ক্লাসের ভিডিও পুনরায় দেখে সেখান থেকে বুঝে নিতে পারে।

 

শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করা এবং সহপাঠীদের সাথে মানসম্মত ডিসকাশনে অংশ নেওয়া খুবই ইজি হয়েছে এই অনলাইন ক্লাস এর কারণে। ইনট্রোভার্ট টাইপের ছেলে মেয়ে যারা ক্লাসে খুব বেশি কথা বলতে পারে না তাদের জন্য এই অনলাইন প্লাটফর্ম অনেক বড় একটা সুযোগ।

 

২। শিক্ষার্থীরা যে কোন বিষয়ে জানার জন্য গুগলে সার্চ করতে পারে

 

আমরা সবাই জানি গুগোল একটা সার্চ ইঞ্জিন। আমাদের যখন কোনো তথ্যের প্রয়োজন হয় তখন আমরা গুগলে সার্চ করি। গুগোল আমাদের সেই তথ্য দিয়ে উপকৃত করে। উদাহরণস্বরূপ এখন আমি জানতে চাচ্ছি আফ্রিকা তে মোট কয়টি দেশ রয়েছে, আমি যদি এই কথাটাই গুগোলে গিয়ে লিখে গুগল আমাকে সরাসরি উত্তর দিয়ে দেবে। এটা কিন্তু ইন্টারনেট ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়।

 

এখন আমরা একটা জিনিস জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা বিশেষ করে স্কুল লেভেলের পড়াশোনা করছে, তাদের মধ্যে নানা বিষয়ে আগ্রহ থাকে খুবই বেশি। কিন্তু তারা তাদের সেই আগ্রহ মেটানোর জন্য যথেষ্ট ভাল পরিমাণ সাপোর্ট কিংবা তথ্য পাচ্ছে না। এই জায়গাটার মধ্যে গুগল খুবই উপকারী একটা অংশ হিসেবে কাজ করছে। কারণ এখন যার যা তথ্য দরকার সে সেটাই গুগোল এ সার্চ করে খুব সহজে নিমিষের মধ্যেই পেয়ে যাচ্ছে।

 

৩। অনলাইনে গড়ে উঠেছে অনেক ভার্চুয়াল স্কুল

 

ভার্চুয়াল স্কুল কিংবা অনলাইনে স্কুলের নাম এখন আমরা সবাই শুনেছি। আমাদের দেশের অন্যতম বড় একটা ভার্চুয়াল স্কুল হচ্ছে টেন মিনিট স্কুল। তারা সাধারনত ফেইসবুক এবং ইউটিউব এর মাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট আকারে তাদের লেসনস প্রদান করে থাকে। এরকমভাবে আরো অনেকবার চুয়াল স্কুল গড়ে উঠছে আমাদের দেশে। এটা সম্ভব হয়েছে ইন্টারনেটের কারনে।

 

সেইদিন আর বেশি দূরে নাই, যখন মানুষ অনলাইন এই স্কুলে ভর্তি হবে অনলাইনে ক্লাস করবে এবং অনলাইনে পরীক্ষা দিয়ে অনলাইনে সার্টিফিকেট গ্রহণ করবে। এটা আমাদের জন্য অনেক অভাবনীয় এবং অনেক বড় একটা ব্যাপার। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারি এই ব্যাপারটি। এতে করে যেরকম সময় বাঁচবে, মানুষের অর্থ বাঁচবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে।

 

৪। টেক্সটবুকের পাশাপাশি ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে পড়াশোনা হচ্ছে আকর্ষণীয়

 

অনলাইনে শিক্ষার অন্যতম একটা মাধ্যম হচ্ছে ডিজিটাল মিডিয়া। এখন ডিজিটাল মিডিয়া বলতে আমরা কি বুঝি, ডিজিটাল মিডিয়া হচ্ছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় গ্রাফিক্যাল ইমেইজ এবং ভিডিও। স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের ভিডিও এবং ছবি গুলো খুবই আকর্ষনীয় হয়ে থাকে। এতে করে তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ এবং আগ্রহ বাড়ে। একজন শিক্ষক চাইলেই অনলাইনে পূর্ব থেকেই সুন্দর করে সাজিয়ে একটা ভিডিও এবং কিছু গ্রাফিক্যাল ছবি দিয়ে তার পাঠ রেডি করে রাখতে পারেন। এবং ইন্টারনেট একসেস করে একজন শিক্ষার্থীর সেই পাঠ গ্রহণ করতে পারে।

 

এর জন্য একজনকে আরেকজনের সামনাসামনি থাকতে হচ্ছে না এবং ওই শিক্ষার্থী চাইলে যেকোনো সময়ই এটা করতে পারে। এটা সম্পূর্ণ সম্ভব হচ্ছে ডিজিটাল মিডিয়ার কারণে। টেক্সটবুক এর পাশাপাশি ডিজিটাল মিডিয়া অনেক আকর্ষণ তৈরি করছে পড়াশোনার জন্য।

 

৫। নিশ্চিত হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা

 

অনলাইনে শিক্ষাব্যবস্থা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করছে, এটা আমরা অনেক কনফিডেন্সলি বলতে পারি। কারণ শিক্ষার মান ধরে রাখার জন্য যা যা প্রয়োজন তা রয়েছে এই অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থায়। এবং এই পুরোপুরি অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার ক্রেডিট যাচ্ছে ইন্টারনেটের কাছে। কারণ ইন্টারনেট ছাড়া এটা কখনো সম্ভব হতো না। কেউ যদি ইন্টারনেট কানেকশন এর বাইরে থাকে তাহলে সে একটা অনেক বড় অনেক বিশাল একটা দুনিয়া থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে। তাই সব শিক্ষার্থীর এবং তাদের পিতা-মাতার উচিত সবার জন্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করা।

 

এবং একই সাথে ইন্টারনেটের সুষ্ঠু এবং সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। না হলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনেকে নিজের মূল্যবান সময় ও নষ্ট করতে পারে।

 

এভাবে নানা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার আমাদের জীবনকে আরও অনেক সহজ করে দিয়েছে। আমরা চাইলেই এখন অনেক কাজ খুব দ্রুততার সাথে ইন্টারনেট এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পন্ন করতে পারি। কিন্তু আমাদের উচিত ইন্টারনেট এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস গুলো কে সঠিকভাবে সঠিক কাজের জন্য ব্যবহার করা।

 

এটা নিশ্চিত করতে পারলেই আমরা কেবল এর সুফল ভোগ করতে পারব। এছাড়া এটা আমাদের জনজীবনে নিয়ে আসবে নানা ধরনের ঝঞ্ঝাট। তাই আসুন ইন্টারনেট এবং অন্যান্য আধুনিক সুবিধা গুলো আমাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করতে ভাল কাজে ব্যবহার করি।

Share With

Share on facebook
Share on twitter
Share on email

You may also like

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular Post

Have You Lost Data!

We have ability of recuperating your data from all kind of digital storage devices