হ্যাকিং থেকে বাঁচার ৯টি উপায় | মোবাইল এবং কম্পিউটার হ্যাকিং

হ্যাকিং থেকে বাঁচার উপায়

হ্যাক, হ্যাকার, হ্যাকিং এই শব্দ গুলোর সাথে আমরা সবাইই মোটামুটি পরিচিত। অনেকেই হয়তো এর সাথে সম্পৃক্ত কোন ঘটনার ও সম্মুখীন হয়েছি। যদি না ও হয়ে থাকেন, তবু ও আমাদের সবারই হ্যাকিং সম্পর্কে বেসিক জানা দরকার, যেন আমাদের নিজেদের ডাটা সুরক্ষিত রাখতে পারি।

 

মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ, যেকোন ডিজিটাল গ্যাজেটই হ্যাকড হতে পারে। তবে ইন্টারনেট কানেক্টেড ডিভাইসগুলোতেই হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তার মানে আপনার হাতে থাকার স্মার্টফোন কিংবা আপনার ওয়াইফাই কানেক্টেড ল্যাপটপ কিন্তু ইতোমধ্যে এই ঝুকির মধ্যে রয়েছে।

 

আপনি চাইলে আপনার ডিভাইসগুলোকে সুরক্ষিত করতে পারেন, কিছু টিপস ফলো করে। আজকে সে বিষয়েই আলোচনা হবে এই পোস্টে। এখানে এমন ৯ টি টিপস আপনাদের সাথে শেয়ার করা হবে, যা আপনাকে হ্যাকিং থেকে বাচতে সাহায্য করবে।

 

হ্যাকিং থেকে মোবাইল এবং কম্পিউটার সুরক্ষিত রাখার উপায়

 

১. পাসওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহার

 

ইন্টারনেট বা অনলাইনে সিকিউরিটি নিয়ে যখন কথা হয়, তখন পাসওয়ার্ড ব্যাপারটা সবার মাথাতেই চলে আসে। পাসওয়ার্ড হচ্ছে আপনার কোন ওয়েবসাইট কিংবা কোন প্রোগ্রাম খোলার একটা চাবি বা কিছু কিওয়ার্ডস।

 

পাসওয়ার্ড জিনিসটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে হ্যাকিং থেকে বেচে যাওয়া সম্ভব। যেমন অনেকেই আছে পাসওয়ার্ড হিসেবে 123456 কিংবা AABBCCDD এই টাইপের সহজ কিছু ক্যারেক্টার বসিয়ে দেন সহজে মনে রাখার জন্য।

কিন্তু এটা অনেক বড় একটা মিস্টেক। একটা আদর্শ পাসওয়ার্ড মিনিমাম ৮-১২ ক্যারেক্টারের হওয়া উচিত। এতে থাকতে পারে একটা মিনিংফুল ওয়ার্ড, কিছু সংখ্যা, এবং ১-২ টা চিহ্ন।

 

যেমনঃ florida45#*&

এরকম যদি আপনার পাসওয়ার্ড হয়, তাহলে কারো পক্ষে সেটা আন্দাজ করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না।

 

২. অপরিচিত কোন লিংকে ক্লিক করবেন না

 

আপনি হয়তো একটা ইমেইল পেলেন, ওখানে একটা অফার দেখলেন বা লোভনীয় কিছু দেখলেন কিন্তু আপনি ইমেইল সেন্ডারকে ও চিনেন না, কিংবা যে সার্ভার থেকে মেইলটা আসছে সেটা ও আপনার পরিচিত নাহ, এমন অবস্থায় এই টাইপের ইমেইল ওপেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

শুধু ইমেইলেই নাহ, আপনি ফেসবুক, টুইটার, কিংবা ইনস্টাগ্রাম ইনবক্সে ও অসংখ্য এমন ম্যালিশিয়াস লিংকস পাবেন। আপনাকে এসব লিংক থেকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।

 

এভাবে আপনার অনেক পার্সোনাল তথ্য চলে যেতে পারে হ্যাকারের কাছে।

 

৩. ক্র্যাক সফটওয়ার ইউজ করা থেকে বিরত থাকুন

 

আমরা কম্পিউটারে অনেক প্রিমিয়াম সফটওয়ার কিনে ইউজ না করে ক্র্যাক ফাইল ইউজ করে থাকি, যা পুরোপুরি বে-আইনি। একই ভাবে কিছু অসাধু হ্যাকাররা এসব ক্র্যাক সফটওয়ারের মধ্যে ওদের হ্যাকিং স্ক্রিপ্ট বসিয়ে সেসব অনলাইনে ফ্রিতে বিতরন করে।

 

অনেকেই না বুঝে সেসব ডাউনলোড করে হ্যাকিং এর শিকার হয়ে থাকেন। এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় দেখা যায় হ্যাকার তাদের কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ কিংবা বিশেষ কিছু তথ্যের এক্সেস নিয়ে নেয়। এবং নির্দিষ্ট পরিমান কিছু টাকা দাবি করে সেটা ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে।

 

এই ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা থেকে বাচতে চাইলে অবশ্যই শুধুমাত্র জেনুইন এবং অরিজিনাল সফটওয়ার ব্যবহার করতে হবে সর্বদা।

 

৪. এন্টি-ভাইরাস সফটওয়ার ইউজ করুন

 

কম্পিউটারের সুরক্ষার জন্য এন্টি-ভাইরাসের কোন বিকল্প নেই। আপনার কম্পিউটারের সর্ব প্রকার সিকিউরিটির জন্য আপনাকে অবশ্যই একটা প্রিমিয়াম এন্টি-ভাইরাস সফটওয়ার ব্যবহার করা উচিত।

 

এতে করে এন্টি-ভাইরাস নিজে থেকেই অনেক সাসপিশিয়াস ওয়েবসাইট এবং প্রোগ্রাম ব্লক করে দিয়ে আপনাকে সুরক্ষিত রাখবে। আর নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রোপার আপডেট এবং স্ক্যানের মাধ্যমে আপনি আপনার পিসির হেলথ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।

 

কোন প্রকার ভাইরাস থাকলে সেটা আপনার স্ক্যানে ধরা পড়বে এবং রিমুভ ও করা যাবে।

 

এটা আপনার হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।

 

৫. শুধু বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটে অনলাইন শপিং করুন

 

অনলাইনে শপিং এখন অনেক জনপ্রিয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে শপিং এর সময় আমাদের ব্যাংক বা কার্ড ডিটেলস সহ অনেক সেনসিটিভ তথ্য আমাদেরকে শেয়ার করতে হয় ওই ওয়েবসাইটের সাথে। এখন আমরা যদি অপরিচিত কিংবা আন-ট্রাস্টেড কোন ওয়েবসাইটে এসব তথ্য শেয়ার করি, তাহলে আমাদের এই ডাটা গুলো হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই শুধু মাত্র ট্রাস্টেড এবং রিলায়েবল ওয়েবসাইট গুলো থেকেই শপিং করা উচিত। এতে করে আপনার তথ্য সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা বেশী।

 

৬. সব ধরনের পপ-আপ এডস ইগনোর করুন

 

আমরা যখন তথ্য খুজতে এই সাইট, ওই সাইটে ঘুরে বেড়াই, তখন হয়তো দেখি কিছু ওয়েবসাইটে পপ-আপ উইন্ডো ওপেন হচ্ছে। ওসব হচ্ছে পপ-আপ এডস।

 

এসব এডস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্পাম বা সস্তা বিজ্ঞাপন হয়ে থাকে।

 

এধরনের সকল পপ-আপ ইগনোর করতে হবে।

 

৭. পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে বিরত থাকুন

 

পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের ফলে হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কারন ওখানের নেটওয়ার্ক পাবলিক হওয়ার কারনে যে কেউ এক্সেস করতে পারে এবং একটা পর্যায়ে আপনার ডিভাইস ও হ্যাকড হতে পারে।

 

আর যদি ইমার্জেন্সি কোন কারনে আপনাকে পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে একটা ভালো মানের প্রিমিয়াম ভিপিএন ব্যবহার করা উচিত। দেখা যায় অনেকাংশে ভিপিএন আপনার নেটওয়ার্ক স্ট্যাটাস, লোকেশন, আই পি ইত্যাদি চেঞ্জ করে বা হাইড করে আপনাকে সুরক্ষিত রাখে।

 

৮. একাধিক ইমেইল ব্যবহার করুন

 

একাধিক ইমেইল ব্যবহার করার মুল কারন হচ্ছে একটার সাথে আরেকটাকে রিকভারি মেইল বা সেকেন্ডারি মেইল হিসাবে যুক্ত করে রাখা। যদি আপনার নির্দিষ্ট কোন ইমেইলে সমস্যা হয়, তাহলে ও যেন আপনি আপনার সেকেন্ডারি ইমেইল দিয়ে আপনার জরুরি ওয়েবসাইট এক্সেস করতে পারেন কিংবা আপনার মুল ইমেইল রিকভার করতে পারেন।

 

৯. টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন এড করুন

 

ফেসবুক সহ নানা ওয়েব সাইটে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন অপশন চালু রয়েছে। এটা খুবই স্ট্রং একটা প্রসেস। এর ফলে কেউ কোন ওয়েবসাইটে লগিন করতে চাইলে দুইটা স্টেপ পার হয়ে যেতে হবে।

 

যেমনঃ হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড পেয়ে গেছে, এখন সে পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করলেই কিন্তু সে আপনার একাউন্টের এক্সেস পেয়ে যাবে। কিন্তু টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু থাকলে তাকে পাসওয়ার্ড দেওয়ার পরে ইমেইল কিংবা ফোনের মাধ্যমে আবার ও একটা কোড দিয়ে ভেরিফাই করে তারপর লগিন করতে হবে।

 

সো বুঝাই যাচ্ছে এই পদ্ধতিটা কতটা ইফেক্টিভ।

 

এই পদ্ধতি গুলো যদি আপনি প্রোপারলি ফলো করেন, তাহলে আশা করা যায় যে আপনি অনাকাঙ্ক্ষিত হ্যাকিং এর শিকার হবেন না।

Share With

Share on facebook
Share on twitter
Share on email

You may also like

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *