কম্পিউটার ফাস্ট রাখার উপায় ও স্লো হওয়ার কারণ

কম্পিউটার ফাস্ট রাখার উপায়

কম্পিউটারের স্পীড অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর যখন আমরা সেটা নিয়মিত ব্যবহার করি। একটা স্লো কম্পিউটার আপনার কাজের ইচ্ছা এবং প্রোডাক্টিভিটি সম্পুর্ন রুপে নষ্ট করে দিতে পারে এবং অনেক সময় কাজকে ও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

 

আমরা অনেকে প্রায়ই প্রশ্ন করে থাকি, আসলে কি কারনে আমাদের কম্পিউটার স্লো হয়ে যায় আর কম্পিউটার ফাস্ট রাখার উপায় গুলোই বা কি কি? আজকে ঠিক এই বিষয় নিয়েই আমাদের ব্লগ পোস্ট। এই পোস্টে আমরা জানার চেষ্টা করবো কি কি কারনে আপনার কম্পিউটার স্লো হয় এবং কি কি কাজ করলে আপনি সেটা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

 

ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ স্লো হওয়ার কারণ

 

আপনার কম্পিউটার স্লো হওয়ার হওয়ার পিছনে কিছু কারন থাকতে পারে, নিম্নে কিছু কারন আমরা উল্লেখ করছিঃ

 

১ঃ অদরকারি প্রোগ্রামস ইনস্টল করে রাখা

 

আমাদের পিসিতে অনেক অদরকারি প্রোগ্রামস চালু থাকে, যা আমরা সচরাচর ব্যবহার করি না। আমাদের উচিত হচ্ছে সেসব সম্পুর্ন রুপে ডিলিট করে ফেলা। এসব সফটওয়ার অতিরিক্ত র্যাম ব্যবহার করে আপনার কম্পিউটার ইউজিং এক্সপেরিয়েন্সকে নষ্ট করে ফেলে।

 

২ঃ আপনার হার্ডডিস্ক একদম ফুল হয়ে যাওয়া

 

আপনার হার্ডডিস্ক যদি একদম ফুল হয়ে যায়, তাহলে ও আপনার ডিভাইস স্লো হতে পারে। এতে করে হার্ডডিস্কের ডাটা প্রসেসিং যে স্পীড আছে সেটা কমে যায়। আর আমরা সবাই জানি, আমাদের সকল সফটওয়ার এবং ডাটা হার্ডডিস্কের জমা থাকে।

 

অতএব, সেটা স্লো হলে আমাদের কম্পিউটার স্লো হতে বাধ্য।

 

৩ঃ নিম্নমানের হার্ডওয়ার ব্যবহার

 

কমদামী বা নিম্নমানের হার্ডডিস্ক, র্যাম, মাদারবোর্ড, পাওয়ার সিস্টেম এর ব্যবহার ও কম্পিউটার স্লো হওয়ার একটা বড় কারণ। তাই আপনি যখন পিসি বিল্ড করবেন, তখন আপনাকে একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে, যেন কোন ভাবেই নিম্নমানের কোন হার্ডওয়ার ব্যবহার না হয়।

 

৪ঃ ভাইরাস আক্রান্ত হওয়া

 

আপনার সিস্টেমে কোন ভাইরাস আক্রমণ করলে সেটা স্লো হয়ে যেতে পারে। এজন্য ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য সমস্ত পদ্ধতি আপনাকে মেনে চলতে হবে।

 

কম্পিউটারের গতি বৃদ্ধি করার ৭ টি উপায়

 

এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক, আপনার কম্পিউটারের গতি বৃদ্ধি করার জন্য আপনি কি কি পদক্ষেপ নিতে পারেন। আশা করছি আপনি যদি সঠিকভাবে এই পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করেন, তাহলে আপনার কম্পিউটার ও ফাস্ট করতে সক্ষম হবেন।
অদরকারি সব সফটওয়ার রিমুভ করা।

ফার্স্ট থিং ফার্স্ট, আপনাকের শুরুতেই আপনার ইনস্টলড সফটওয়ারের লিস্টে যেতে হবে, গিয়ে বের করতে হবে কি কি সফটওয়ার আপনার কোন কাজে লাগছে না। সেসব প্রোগ্রাম আপনার পিসির র্যাম এবং হার্ডডিস্কে শুধু শুধু অতিরিক্ত স্পেস নষ্ট করছে, শুরুতেই তাদেরকে রিমুভ করতে হবে।

 

অটোম্যাটিক আপডেট বন্ধ করা

 

উইন্ডোজ বা যেকোন প্রোগ্রাম নিয়মিত আপডেট করা জরুরি, এতে করে আপনার কম্পিউটার ভালো থাকে। কিন্তু, অটোম্যাটিক আপডেটটা জরুরি নয়। এতে করে আপনি যখন কাজ করবেন, তখন আপনার ব্যাকগ্রাউন্ডে সিস্টেম আপডেট হতে থাকবে যা আপনার র্যামের উপর প্রেশার ক্রিয়েট করবে।

 

অটোম্যাটিক আপডেট বন্ধ করে একটা শিডিউল আপডেট দিতে পারেন, যখন আপনি কাজ করবেন না, তখন। সেটা হতে পারে উইকলি বা প্রতি ১০ দিনে একবার।

 

আপনার কুলিং সিস্টেম আপগ্রেড করুন

 

কম্পিউটারের কুলিং সিস্টেম খুবই জরুরি একটা ব্যাপার। কারন এখন হাই-পারফরম্যান্স যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সবাই, যার ফলে পাওয়ার ও ইউজ হয় বেশী। এতে করে আপনার যন্ত্রাংশ গুলোর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আপনার কুলিং সিস্টেম আপগ্রেড করা খুবই জরুরি।

 

ভালো মানের হার্ডওয়ার ব্যবহার করুন

 

সব সময় অরিজিনিয়াল এবং ব্র্যান্ডেড হার্ডওয়ার ব্যবহার করতে হবে, হোক সেটা হার্ডডিস্ক কিংবা র্যাম। তা না হলে কিছুদিন পরেই দেখবেন আপনার ওয়ার্কিং এক্সপেরিয়েন্স একদম জিরোতে চলে আসতেছে এবং পুরো পিসিই স্লো হয়ে যাচ্ছে।

আপনি সব ভালো যন্ত্রাংশের সাথে যদি একটা বা দুইটা নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার করেন, দেখা যাবে ওই গুলোর কারনে আপনার অরিজিনাল প্রোডাক্ট থেকে ও আপনি ভালো আউটপুট পাচ্ছেন না।

 

সেজন্য পিসি বিল্ড করার সময় এই ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতে হবে, যেন কোন ভাবেই আপনার পিসিতে নিম্নমানের কোন পন্য চলে না আসে।

 

হার্ডডিস্ক রিপ্লেস করে এসএসডি ব্যবহার করুন

 

এটা এখন চিরন্তন সত্য যে HDD এর চেয়ে SSD অনেক বেশী ফাস্ট। আপনি যদি আপনার পিসিকে ফাস্ট বানাতে চান, তাহলে আপনার HDD কে রিপ্লেস করে আজই সেখানে SSD লাগিয়ে নিন। SSD তে HDD’র মত কোন স্পিনিং ডিস্ক না থাকে না, থাকে একটা ফ্লাশড মেমোরি। সে কারনে তার স্পীড বহুগুন বেশী।

 

আপনি আপনার পিসিতে এসএসডি যোগ করলে বুঝতে পারবেন কতটা গতি যোগ হয়েছে আপনার ডিভাইসে। অন অফ হওয়া থেকে শুরু করে সব কাজের একটা বেটার ফিল পাবেন।

র‌্যাম যোগ করুন

আপনার পিসিতে র্যাম যদি কম হয়, তাহলে সেটা স্পীডের অনেক বড় একটা ইস্যু হতে পারে। আপনার উচিত হবে পিসিতে র্যাম যোগ করা। র্যামে যত বেশী স্পেস ফাকা থাকবে আপনার ইউজিং এক্সপেরিয়েন্স তত বেশী ভালো হবে।

 

হার্ডডিস্ক অপটিমাইজ/ডিফ্র্যাগ করুন

 

হার্ডডিস্ককে নিয়মিত অপটিমাইড, ডিফ্র্যাগ এবং ক্লিনাপ করতে হবে। এতে করে হার্ডডিস্কের হেলথ ভালো থাকে। আপনার ডিস্কে জমে থাকা অনেক অদরকারি ক্যাশ ফাইল এতে করে রিমুভ হয়ে যাবে এবং আপনি অনেক ভালো এক্সপেরিয়েন্স পাবেন আপনার হার্ডডিস্ক স্পীডে।

 

উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো মেনে চলতে পারলে আপনি ও আপনার কম্পিউটারের গতি বাড়াতে সক্ষম হবেন। এবং একই সাথে আপনার কম্পিউটার সুরক্ষিত ও থাকবে হ্যাকারদের হাত থেকে। এর পরে ও আপনি যদি কোন জটিলতার কারনে আপনার হার্ডডিস্ক থেকে কোন প্রকার ফাইল হারিয়ে ফেলেন বা হার্ড ডিস্ক থেকে কোন ডাটা মিসিং হয়, তাহলে আপনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

 

আমরা এক্সপার্ট ডাটা রিকভারি ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা আপনার ডাটাগুলো ফিরিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর। আপনার মুল্যবান এবং দরকারি ডাটাগুলো ফেরত পেতে চোখ বুলিয়ে দেখতে পারেন আমাদের সার্ভিস পেজে কিংবা যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের সাথে।

Share With

Share on facebook
Share on twitter
Share on email

You may also like

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular Post

Have You Lost Data!

We have ability of recuperating your data from all kind of digital storage devices