অনলাইন থেকে আয় করার ১০টি সহজ উপায়

অনলাইন থেকে আয় করার উপায়

অনলাইন থেকে আয় করা সবার স্বপ্ন। আধুনিক যুগে এসে মানুষের কাজ আস্তে আস্তে অনলাইন নির্ভর হয়ে পরছে। ফলে মানুষ অনলাইনের নানা ফিল্ডে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলে আয় করছে ঘরে বসেই। আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো এমন ১০ টি উপায় যা ফলো করে আপনি নিজে ও অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন, খুব সহজেই, ঘরে বসেই।

 

অনলাইন থেকে আয়ের ১০টি উপায়

 

১। আর্টিকেল লিখে আয় করা

 

আপনি যদি নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের উপরে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে সেই বিষয়ে আপনি ইংরেজি আর্টিকেল বা কন্টেন্ট তৈরি করে সেটা বিক্রি করতে পারেন। ধরে নিচ্ছি, আপনি একজন ক্রিকেট প্রেমি, আপনি ক্রিকেট নিয়ে পড়তে এবং লিখতে খুবই পছন্দ করেন। এখন আপনি চাইলে বিভিন্ন ক্রিকেট ব্লগের জন্য লিখতে পারেন বা তাদের রাইটার হিসেবে কাজ করতে পারেন।

 

তবে হ্যা, এই ব্যাপারে ইনকাম করার মত অবস্থায় যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট কোন টপিকে একজন এক্সপার্টের মত লিখতে হবে। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস সহ, লোকালি ও আপনি অনেক কাজ পাবেন, যদি আপনার লেখার মান ভালো থাকে। একজন ইংলিশ কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে মাসে গড়ে ১০০০-১৫০০ ডলার আয় করতে পারবেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে।

 

২। গ্রাফিক্স ডিজাইন করে

 

গ্রাফিক্স ডিজাইন করে ও খুব ভালো ইনকাম করা সম্ভব। যত দিন যাচ্ছে এই সেক্টরে সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাচ্ছে। মার্কেট প্লেসে খুব সহজেই ছোট ছোট লগো বা বিজনেস কার্ড ডিজাইনের কাজ পেতে পারেন আপনি। এছাড়া ও লোকাল মার্কেটে অনেক কাজ দেওয়া নেওয়া হয়ে থাকে এই সেক্টরে।

 

এর জন্য আপনাকে ইলুস্ট্রেটর এবং ফটোশপে খুবই দক্ষ হতে হবে। আপনি একটু পরিশ্রম করে ক্লায়েন্ট ম্যানেজ করতে পারলে এবং তাদেরকে স্যাটিসফাইড করতে পারলে খুব সহজেই এখানে আপনার ক্যারিয়ার বিল্ড করতে পারবেন।

 

৩। ওয়েব ডিজাইন করে

 

ওয়ার্ডপ্রেস কিংবা অন্য কোন প্লাটফর্মে আপনি যদি ভালোভাবে ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে পারেন, তাহলে আপনি এই সার্ভিসটা সেল করে ভালো পরিমান অর্থ আয় করতে পারেন। এখন প্রতিনিয়ত অনেক অনেক নতুন ওয়েবসাইট শুরু হচ্ছে, সেসবের জন্য দরকার অনেক বেশী মানসম্পন্ন ওয়েব ডেভেলপার। কিন্তু আমাদের চারদিকে কোয়ালিটিফুল ডেভেলপারের সংখ্যা খুবই কম।

 

এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আপনি চাইলে নিজেকে এই সেক্টরে একজন স্কিলড পার্সন হিসেবে দাড় করাতে পারেন। আপওয়ার্ক, ফাইভার সহ বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে আপনি এর প্রচুর কাজ পাবেন। আপনি চাইলে মার্কেটপ্লেসের বাইরে ও নিজেকে ব্র্যান্ড হিসেবে দাড় করিয়ে কাজ আদায় করে নিতে পারেন। শুরুতে এটা খুব চ্যালেঞ্জিং হলে ও ধীরে ধীরে আয়ত্তে চলে আসবে।

 

Read More: কম্পিউটার ফাস্ট রাখার উপায় ও স্লো হওয়ার কারণ

 

৪। গেম বানিয়ে আয় করা

 

আমরা আমাদের পিসি বা ফোনে প্রচুর গেম খেলে থাকি। কিন্তু আমরা কি জানি যে, যারা এসব গেম ডেভেলপ করেছে তারা আসলে আমাদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করতেছে। কিন্তু কিভাবে? সেটা হচ্ছে, গেম খেলার সময় আমাদের নানাভাবে তারা এডস দেখাচ্ছে।

 

সাপোজ, আপনার গেমের একটা রাউন্ড শেষ হওয়ার আগ মুহুর্তে আপনি হেরে গেলেন, এখন স্ক্রিনে লেখা আসলো, এই এডস টি দেখলে আপনি ঠিক ওই জায়গা থেকেই গেমটা শুরু করতে পারবেন, তখন স্বাভাবিক ভাবেই আপনি ওই এডস টা দেখবেন। এরকম করে যত বেশী এডস তারা শো করাতে পারে তত বেশী ইনকাম করে।

 

গেম বানাতে চাইলে আপনাকে শিখতে হবে কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। এবং এই ইন্ডাস্ট্রি অনেক বিশাল এবং এর ভবিষ্যৎ ও খুবই ভালো। আপনি যদি আপনার কিছু সময় ইনভেস্ট করে গেম ডেভেলপমেন্ট শিখতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে লাভবান হতে পারবেন এবং এটা থেকে অনলাইনে আয় করতে পারবেন।

 

৫। ভিডিও ইডিট করে আয় করা

 

দিন দিন ভিডিও কন্টেন্টের পরিমান বাড়ছে, সাথে সাথে বাড়ছে ভিডিও ইডিটরের চাহিদা। আপনি যদি ভালো একজন ইডিটর হন, তাহলে আপনার কাজের অভাব থাকবে না। তবে সবার আগে, আপনাকে স্কিলড হতে হবে। আপনি অনলাইনে নানা মার্কেটপ্লেসে ভিডিও ইডিটিং নিয়ে অনেক কাজ পেয়ে যাবেন। তবে এই কাজের জন্য আপনাকে অনেক ক্রিয়েটিভ হতে হবে এবং যার জন্য আপনি কাজ করছেন, তার আইডিয়ার সাথে নিজেকে সিনক করে নিতে হবে।

 

এটা অনেক সময় খুবই চ্যালেঞ্জিং কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আপনি ও একজন আদর্শ মানের ভিডিও ইডিটর হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলে সেটা দিয়ে অনলাইন থেকে আয় করতে পারেন।

 

পরামর্শঃ হার্ডডিস্ক থেকে যদি ভুলবশত কোন ডাটা হারিয়ে যায়, তাহলে চিন্তার কিছু নাই, Data Recovery Station যেকোনো ডিজিটাল স্টোরেজ থেকে যেকোনো ডাটা রিকভার করতে সক্ষম।

 

৬। ইউটিউবের জন্য কন্টেন্ট ক্রিয়েট করা

 

ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ও একটা বড় পরিমান আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ইউটিউবে আমরা প্রতিনিয়ত নানা টপিকের উপর ভিডিও দেখে থাকি। আপনি যদি নির্দিষ্ট কোন টপিকের উপর প্যাশনেট হয়ে থাকেন এবং মনে করেন যে ওই টপিক নিয়ে আমি নিজে ভিডিও তৈরি করতে পারবো, তাহলে আপনি ও শুরু করতে পারেন আপনার ইউটিউব চ্যানেল।

 

এটা শুরু করা খুবই সহজ এবং সম্পুর্ন ফ্রি। আপনার ভিডিওতে যখন ভালো পরিমান ভিউজ আসবে, তখন আপনি ভিডিওতে এডস দেখিয়ে সেখান থেকে ভালো পরিমানের একটা এমাউন্ট আয় করতে পারবেন।

 

৭। ব্লগিং করে আয় করতে পারেন

 

নির্দিষ্ট একটা টপিকের উপর আপনি একটা ব্লগ চালু করতে পারেন। এবং সেখানে নিয়মিত কন্টেন্ট বা ব্লগ পোস্ট দিয়ে সেখানে আপনার একটা ফ্যান বেইজ তৈরি করতে পারেন। আপনার ব্লগে যদি ভালো পরিমানের ট্রাফিক আসে, তাহলে আপনি সেখান থেকে এডস এবং অ্যাফিলিয়েট দুইভাবে ইনকাম করতে পারবেন।

 

ব্লগিং করে আয় করাকে বলা হয় প্যাসিভ ইনকাম। তবে এটা করতে হলে আপনাকে, কন্টেন্ট রাইটিং, এস ই ও, এবং বেসিক ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে ধারনা থাকা লাগবে। আর ব্লগিং এ কখনো তাড়াহুড়া করলে সেটা কাজের হয় না। আপনাকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে।

 

উপসংহার

 

এই ছিল আমাদের অনলাইন থেকে আয় করার ১০ টি উপায়। আপনি চাইলে এর মধ্যে যেকোন একটি বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারেন। তাহলে আপনি ও অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন খুব সহজেই।

 

Read More: ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় ও কেনার আগে করণীয়

Share With

You may also like

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular Post

Have You Lost Data!

We have ability of recuperating your data from all kind of digital storage devices