লিনাক্স ও উইন্ডোজ কি? এদের মধ্যে পার্থক্য এবং ব্যবহার সমূহ

লিনাক্স ও উইন্ডোজ

কম্পিউটার ইউজ করেন কিন্তু লিনাক্স এবং উইন্ডোজ এর নাম শোনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। আজকে আমরা লিনাক্স এবং উইন্ডোজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। অনেকেই এই দুটির নাম শুনেছেন কিন্তু বিস্তারিত হয়তো জানেন না। বিশেষ করে লিনাক্স এ ব্যাপারে অনেকেরই অজানা। তাই আমরা চেষ্টা করব আজকের এই ব্লগ পোস্ট এর মধ্য দিয়ে লিনাক্স এবং উইন্ডোজ সম্পর্কে আপনাদেরকে বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার।

 

উইন্ডোজ কি?

 

আমি আপনি আমরা সবাই বেশিরভাগই সাধারণত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমচালিত কম্পিউটার ইউজ করে থাকি। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের নাম যা পার্সোনাল কম্পিউটার চালাতে সাহায্য করে। বলা চলে এই পৃথিবীতে পিসি বা পার্সোনাল কম্পিউটারের অভ্যুত্থান ঘটেছে উইন্ডোজ এর হাত ধরেই। উইন্ডোজ এর প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন আমেরিকান বিলিয়নিয়ার বিল গেটস।

 

উইন্ডোজের ব্যবহার অনেক বিষয় এবং জরুরী। আমরা আজকে এই পোস্টের মধ্যে উইন্ডোজ এর ব্যবহার সমুহ সম্পর্কে জানব।

 

উইন্ডোজের ব্যবহার সমুহ

 

উইন্ডোজ নানা সময় ধাপে ধাপে তাদের বিভিন্ন ভার্সন বাজারে নিয়ে এসেছে। আমরা সবাই জানি উইন্ডোজ 8 অপারেটিং সিস্টেম এবং এর প্রধান কাজ হচ্ছে একটা কম্পিউটার কে পরিচালিত করা। আপনি যখন আপনার পিসিতে উইন্ডোজ ইন্সটল করেন তখন উইন্ডোজের থাকা ডিফল্ট প্রোগ্রামগুলো আপনার কম্পিউটারকে সঠিকভাবে চালনা করতে সাহায্য করে।

 

উইন্ডোজ ইন্সটল করার মধ্য দিয়ে আমরা অনেকগুলো প্রোগ্রামের অ্যাক্সেস পেয়ে যাই। যেমন উইন্ডোজ পেইন্টিং। এই প্রোগ্রামটি ব্যবহার করে আমরা নানা ধরনের ছবি আঁকতে পারি কিংবা রং নিয়ে আঁকিবুকি করতে পারি। অথবা বলা যেতে পারে নোটপ্যাডের কথা। যেখানে আমরা আমাদের জরুরী টেক্সট গুলো লিখে রাখতে পারি।

 

উইন্ডোজ মূলত মাইক্রোসফট কোম্পানির একটি পণ্য। microsoft-এর আরো নানা ধরনের পণ্য রয়েছে যা কিনা উইন্ডোস কম্পিউটারে ব্যবহার করতে হয়। আমরা সবাই হয়তো মাইক্রোসফট অফিসের নাম শুনেছি, উইন্ডোজের মূল কোম্পানি microsoft-এর একটা ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার।

 

এছাড়াও উইন্ডোজের নানা ধরনের প্রোগ্রাম রয়েছে যা আমাদের কম্পিউটার চালানো অনেক সহজ করে তোলে।

 

লিনাক্স কি?

 

লিনাক্স উইন্ডোজ এর মতই একটা অপারেটিং সিস্টেম কিন্তু হিন্দুদের সাথে লিনাক্সের কিছু পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে লিনাক্স একটা ওপেনসোর্স যেখানে যে কেউ চাইলেই যে কোন প্রোগ্রাম নিজের মতো করে এডিট করতে পারবে।আমাদের দেশে পাইরেটেড উইন্ডোজ এর খুব বেশি ছড়াছড়ি কিন্তু অনেকেই জানেনা যে পাইরেটেড উইন্ডোজ ইউজ না করে ফ্রিতে লিনাক্স ইউজ করলে এরচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সম্ভব। অনেকেই তো উইন্ডোজ ছাড়া আর কোন অপারেটিং সিস্টেমের নাম জানে না। আজকে আমরা এখানে লিনাক্স সম্পর্কে জানবো এবং জানব এর ব্যবহার গুলো কি কি।

 

লিনাক্সের ব্যবহার সমুহ

 

অবাক মনে হলেও সত্যি যে গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান তাদের সমস্ত কার্যক্রম লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে করে থাকে। বলা হয়ে থাকে যে পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে এই লিনাক্স। আপনি যদি সার্ভার রিলেটেড কোন বিজনেস করেন তাহলে লিনাক্স আপনার জন্য অপরিহার্য একটা জিনিস। আপনারা অনেকেই হয়তো লিনাক্স সার্ভার এর নাম শুনেছেন, এটা একদিকে যেমন খুব বেশি ফাস্ট অন্যদিক দিয়ে খুব বেশি সিকিউরড।

 

গুগোল এর পরে উইকিপিডিয়ার মত বড় কোম্পানি ও তাদের সমস্ত কার্যক্রম লিনাক্স এর মাধ্যমে করে থাকে। এই অপারেটিং সিস্টেমটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে ভাইরাসের আক্রমণের কোন ভয় নেই। এটাতে এত বেশি অ্যাক্সেস দেওয়া হয়েছে এর ইউজার কে যে আপনি চাইলে এটা সম্পূর্ণ আপনার নিজের মতো করে মডিফাই করে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু উইন্ডোজে আপনি তাদের নিজস্ব ইন্টারফেসের বাইরে বের হতে পারবেন না।

 

আমেরিকান নেভিতে তাদের তথ্য এবং সার্ভার রিলেটেড সব কাজের জন্য অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে লিনাক্স ব্যবহার করা হয়। একই সাথে স্পেনের সরকার সরকারি পদক্ষেপে সাধারণের কাছে লিনাক্স পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল, যার ফলে স্পেনে লিনাস এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। স্পেন ছাড়াও পৃথিবীর নানা দেশে লিনাক্স এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর আমাদের সবার উচিত লিনাক্স শেখা।

 

আর আপনি যদি একজন কম্পিউটার সায়েন্সের স্টুডেন্ট তাহলে আপনার জন্য লিনাক্স শেখা বাধ্যতামূলক। কারণ এতে করে আপনার সামনে অনেক অপরিচিত ওপেন হবে যা উইন্ডোজ ব্যবহারকারীর জন্য মোটেও সম্ভব না।

 

লিনাক্স এবং উইন্ডোজের মধ্যে পার্থক্য গুলো কি কি?

 

উইন্ডোজ এবং লিনাক্স এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যে পার্থক্য সেটা হচ্ছে লিনাক্স একটা ওপেনসোর্স, কিন্তু উইন্ডোজ কোন ওপেনসোর্স নয়। আপনি চাইলেই লিনাক্সের যেকোনো ধরনের কোড দেখতে পারবেন সেটা এডিট করতে পারবেন এবং আপনার ইচ্ছা মত সাজাতে পারবেন। কিন্তু উইন্ডোজ এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আপনি যদি কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করেন তাও উইন্ডোজ তাদের কার্নেল সোর্সকোড আপনার সাথে কখনোই শেয়ার করবে না।

 

উইন্ডোজে যখন কোনো সমস্যা দেখা দেয় তখন উইন্ডোজ নিজে নিজে সেটা ডায়াগনোসিস করে সমাধান করে দেয়। তাই একজন গ্রাহক হিসেবে আপনার জানা থাকে না যে আসলে কি সমস্যা হয়েছিল। এবং আপনি চাইলেও এর খুঁটিনাটি বের করতে পারবেন না। কারণ সেটা শুধুমাত্র উইন্ডোজ নিজে প্রসেস করে আপনাকে প্রদান করে। কিন্তু লিনাক্সে যখন কোন সমস্যা হয় সেটা আপনি নিজে বের করে দেখতে পারবেন যে কোথায় সমস্যা হয়েছে এবং আপনি নিজে নিজে সেটা ফিক্স করতে পারবেন। ওপেনসোর্স হওয়াতে রয়েছে অপরিসীম অপরচুনিটি, আপনি কখনোই উইন্ডোজে পাবেন না।

 

মোট কথা হচ্ছে লিনাক্সের অপার সম্ভাবনার একটা অপারেটিং সিস্টেম যা সঠিক ভাবে ইউজ করে আপনি অনেক কাজে লাগাতে পারবেন। কিন্তু সেটা উইন্ডোজে কখনো সম্ভব না। আপনি যদি লিনাক্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান এবং শিখতে চান তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন, আমরা আমাদের পরবর্তী ব্লগপোস্ট সমূহে ধারাবাহিকভাবে লিনাক্স সম্পর্কে আপনাদেরকে জানিয়ে দিব।

 

ধন্যবাদ, এই ছিল আমাদের আজকের ব্লগ পোষ্ট লিনাক্স এবং উইন্ডোজ সম্পর্কে। আশা করি আপনারা উইন্ডোজ এবং লিনাক্স সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

Share With

Share on facebook
Share on twitter
Share on email

You may also like

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *